বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবাহিতা বধূ খুনের মামলায় অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
দি নিউজ লায়নঃ খুনের মামলায় অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের পাশাপাশি দশ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিলো কাটোয়া মহকুমা আদালত। জানা যায়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বিবাহিতা বধূকে ডেকে এনে খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিল কাটোয়া মহকুমা আদালত। অভিযুক্তের নাম হাফিজুল শেখ(৩৩) ওরফে রাজ। মৃতার নাম সেবিনা বিবি। জানা যায়, সেবিনা বিবির বাপের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গা থানার বড়েঞা গ্রামে। বহরমপুরের সেবিনার শ্বশুরবাড়ি।
দেখাশোনা করে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। জানা যায়, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে সেবিনা বিবির সঙ্গে মোবাইল ফোনের সুত্রে পরিচয় হয় হাফিজুল শেখ ওরফে রাজের। সে সেবিনাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। সেবিনার বাবার বাড়ির লোকজনদের সঙ্গেও সে পরিচয় করে। তারপর ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারী খাগড়া স্টেশনের আগে হল্ট স্টেশন থেকে সেবিনা ও তাঁর তিন বছরের শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে কাটোয়ায় আসে হাফিজুল সেখ ওরফে রাজ। রাতে তাঁরা স্টেশনেই ছিল। পরের দিন সেবিনাকে নিয়ে কাটোয়ার বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে।
তারপর ওই দিন রাতে কাটোয়ার জাজিগ্রাম রেলগেটের কাছে সাবিনা ও তাঁর শিশুপুত্রকে নিয়ে যায়। সেখানে সেবিনাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে সর্ষের জমিতে দেহটি ফেলে পালিয়ে যায় হাফিজুল। ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারী কাটোয়ার জাজিগ্রাম রেলস্টেশনের কাছে একটি সর্ষে জমি থেকে সেবিনার মৃত দেহ উদ্ধার করে কাটোয়া থানার পুলিশ। মৃতদেহের পাশেই ছিল সেবিনার তিন বছরের শিশুপুত্র। সেবিনার শিশুপুত্রের বয়ান ও মৃতার মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মঙ্গলকোট থানার দুরমুট গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুল শেখ ওরফে রাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তারপর থেকে জেলেই ছিল অভিযুক্ত। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২৩ জনের স্বাক্ষ্য নেওয়া হয়। মূল স্বাক্ষী ছিল ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মৃত বধুর শিশুপুত্র। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর এদিন এই খুনের মামলার রায় ঘোষনা হয়। খুনের অভিযোগে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের পাশাপাশি দশ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন কাটোয়ার এডিজে ফার্স্ট ট্রাক কোর্টের বিচারক। অনাদায়ে অতিরিক্ত ৫ বছরের কারাদন্ডের নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি মৃতার শিশুপুত্রকে এসডিএলসি থেকে অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

Post a Comment